-: জনপ্রতিনিধিরা হোন সংসদে মানুষের কণ্ঠ : দাবি আমজনতার :-

-: জনপ্রতিনিধিরা হোন সংসদে মানুষের কণ্ঠ : দাবি আমজনতার :-

সব্যসাচী ঘোষ, আলিপুরদুয়ার :- ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উৎসব শুরু হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হলো এই উৎসবের উপাস্য জনগণ আর উপাসক হল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কিন্তু ততক্ষণ যতক্ষণ উৎসবের উপাসনা চলবে। উপাসনা শেষ চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে উপাস্য হয়ে ওঠেন জনপ্রতিনিধিরা এবং তার দলের নেতানেত্রীরা যাদের ধরে তার কাছে পৌঁছতে হয়। আর উপাসক হয়ে ওঠেন আমজনতা যারা কয়েকদিনের জন্য উপাস্য হয়ে ওঠেন আর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য গণ প্রতিনিধিদের কাছে উপাসনা করতে থাকেন অভাব অভিযোগ পাওয়া না পাওয়ার তালিকা নিয়ে।

দেশের বড় বড় শহরের মতো এখন শহর, শহরতলি ও গ্রামগঞ্জের মানুষও দিন যাচ্ছে আর বুঝতে পারছে সংসদে জনপ্রতিনিধি তাকেই দরকার যিনি এলাকার মানুষের সমস্যা অভাব অভিযোগ তুলে ধরতে পারবেন, যিনি লজ্জা ঘৃণা ভয় ত্যাগ করে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সংসদে নিজের মুখটা খোলা রাখবেন পাঁচ বছর। এলাকার উন্নয়নে দলের পাশাপাশি প্রতিনিধির ব্যাক্তিত্ব ও বাকপটুটাও যে একান্ত প্রয়োজন তা এখন উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছেও যত দিন যাচ্ছে তত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী দশকের নির্বাচন গুলোতে যে এই ধারণার প্রভাব ভোটে পড়বে তা বলাইবাহুল্য।

চা বাগানের বাসিন্দা বিমল ওঁরাও বলেন, ‘ভোট দিয়ে জেতানোর পর প্রতিনিধি যদি আমাদের কথাই না বলেন তবে সরকার আমাদের অভাব অভিযোগের কথা জানবে কি করে। বলার লোক দরকার।’ চা বিক্রেতা স্বপন দেব জানান, ‘ জনপ্রতিনিধিরাও মাসিক সাম্মানিক পান সুযোগ সুবিধা সবই পান স্থানীয় এলাকার মানুষের হয়ে কথা বলার জন্য। মেয়াদ শেষে ভাতাও পান। তিনিও পাঁচ বছরের জন্য অন্য চাকুরিজীবির মতোই বেতন ভুক্তকর্মী। তাকে তো বলতে হবেই।’ কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে স্কুলে শ্রেণীকক্ষের গুটি কয়েক ছাত্রছাত্রীর মতো সংসদেও দেশের হাতে গোনা গুটিকয়েক সাংসদই এলাকার সমস্যা অভাব অভিযোগ ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সাংসদদের কন্ঠ সোচ্চার হোক এটাই উত্তরের মানুষের দাবি। সংসদে যে প্রতিনিধি উত্তরের ভাঙা সাঁকো, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সরব হবেন, যিনি উত্তরের বিভিন্ন জনপদ, জনজাতির উন্নয়নে সংসদে সোচ্চার হবেন, উত্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে যার কণ্ঠ উত্তরের আত্মার কন্ঠের সাথে মিলিত হয়ে সংসদে প্রতিধ্বনিত হবে সেই রকম জনপ্রতিনিধিই এখন উত্তরের সর্বস্তরের মানুষ কামনা করছেন। মানুষের এই ধ্যান ধারণার পরিবর্তন এই দশকে ফলশ্রুতি না হলেও আগামী দশকের নির্বাচন গুলোতে দলমত ছাপিয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা দক্ষতা বাগ্মিতাও যে ভোটের ইশ্যু হতে চলেছে তা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়া মানুষের সমালোচনা আত্ম সমলোচনায় ও খোলা মতামতে একপ্রকার পরিষ্কার। মনে রাখা দরকার স্কুলের গন্ডি না পেরোনো সমাজের প্রান্তিক মানুষ গুলোও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আজ শিক্ষিত ও দেশ রাজ্যের ঘটনাবলির ওপর সর্বস্তরের মানুষের দৈনন্দিন নজরদারি চলে ফলে আগামীদিনে জনপ্রতিনিধিদের পাঁচবছর ধরে মানুষের স্বার্থে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সংসদে মুখ খোলা রাখার অভ্যাস রপ্ত করতেই হবে না হলে এলাকায় মুখ দেখানোই যে দায় হয়ে পড়বে তা একপ্রকার নিশ্চিত।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *