-: সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য :- সৌগত ঘোষ :-

-: সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য : সৌগত ঘোষ -:-


লেখক : সৌগত ঘোষ :-

বিবাহ শব্দটি মনে করিয়ে দেয় দুই মানব শরীর ও আত্মার মহা মিলন। ঈশ্বরের সৃষ্ট মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ অধ্যায় গার্হস্থ্য জীবন বা সংসার। দুই ভিন্ন লিঙ্গের মানব বন্ধনের মধ্য দিয়ে বৈবাহিক জীবনে প্রবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের। বিবাহ বা চলিত ভাষায় বিয়ে শব্দটি খুবই আনন্দের। বিয়ে ভগবানের সৃষ্টি একটি অভূতপূর্ব মানবমিলন যার মধ্য দিয়ে দুটি মানুষ সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে। একে অপরের দায়িত্ত্ব নেয় একসাথে পথ চলার একসাথে ঘুরতে যাওয়ার একসাথে খাওয়ার একসাথে সিনেমা যাওয়ার আরো অনেক কিছু। সুতরাং এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিবাহ এতই আনন্দের দুটো মানুষ এক হয় দুটো পরিবার এক হয় কিন্তু এই আনন্দ গুলোর মধ্যে কলহ কখন প্রবেশ করে।

সাধারণত দেখা যায় বিবাহের প্রথম প্রথম ছ’মাস বা এক বছর সবই ঠিকঠাক থাকে তারপরই সামান্য কিছু কিছু বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং শান্তির পরিবেশটা নষ্ট হয়। বর্তমান যুগে সমাজ অনেক উন্নত। বিয়ের আগে দুই পরিবারই সুযোগ দেয় একে অপরকে ভালো করে জেনে নেওয়ার জন্য। সেটা ফোনেই হোক বা দেখা করার মধ্য দিয়েই হোক। আর যদি ভালোবাসার বিবাহ হয় তাহলে তো তারা একে অপরকে জানবার আরো সময় পায়। সাধারণত জানবার বিষয় যেগুলো থাকে কার কি পছন্দ অপছন্দ ,জীবনের লক্ষ্য, কি করতে ভালো লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার প্রশ্ন সব কিছু জানার পরও কেন বিবাহের পর এই কলহ। কিছু কিছু কলহ তো পরিবারের মধ্যেই মিটে যায়, কিন্তু যেগুলো মেটেনা সেগুলোর মীমাংসা হয় নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে অথবা আদালতে।


চলুন এখন জেনে নেই সামান্য দুই একটি বিষয় যা লক্ষ্য করে চললেই আপনার পরিবার হয়ে উঠবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পরিবার। কথায় আছে ‘ সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’- সংসার সুখী করার পেছনে রমণী বা স্ত্রীর যতটা দায়িত্ত্ব রয়েছে ততটাই দায়িত্ত্ব রয়েছে স্বামীর। অনেক ক্ষেত্রে কলহের মূল কারণ আর্থিক চাহিদা মেটানোর বিষয় হতে পারে বা শারীরিক চাহিদা মেটানোর বিষয় হতে পারে বা পারিবারিক সুখের চাহিদা অর্থাৎ মা বাবা ও পরিবারের সবাইকে ভালো রাখার চাহিদা হতে পারে। বিষয়টি লক্ষ্য করলে দেখবেন কলহের মূলে রয়েছে চাহিদা আর কেবল চাহিদা।

এবার মনে হতেই পারে আমরা মানব জাতি। আমাদের চাহিদা থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমরা যদি আমাদের এই চাহিদার পরিমানটুকু একটু কমাতে বা সংযত করতে পারি তাহলেই দেখবেন আপনি অল্প পেলেই সেটাকে অনেক বলে মনে হচ্ছে এবং নিজেকে সুখী বলে মনে হবে। লেখাটি পড়ে আপনাদের মনে হতেই পারে যে এখানে আপনাকে আপনার চাহিদার সাথে কম্প্রমাইস করতে বলা হচ্ছে কিন্তু বিষয়টি তা নয়। চাহিদার পরিমান জীবন জীবিকা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে সঙ্গতি রেখে একটু সংযত করলে যদি সংসারে ও জীবনে সুখ শান্তি আসে তবে ক্ষতি কোথায়। স্বামী এবং স্ত্রীর উভয়েরই মনে রাখা উচিত পরিবারটি আপনার ,একে সুখী রাখার দায়িত্ত্ব একান্তই আপনাদের। সবশেষে একটাই কথা বলবো চাহিদা কম সুখী সংসার অন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *